• (লেখাটি The Scientist এ প্রকাশিত Surgeons Successfully Transplant a Pig Kidney into a Person এর অনুবাদ) আমেরিকার জাতীয় কিডনী ফাউন্ডেশনের মতে, অঙ্গ স্বল্পতার কারণে একটি কিডনী প্রতিস্থাপনের অপেক্ষা বেশ কয়েক বছর ধরে চলতে থাকে। এই অঙ্গ স্বল্পতা মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর অঙ্গ দিয়ে পূরণ করা যেতে পারে, যদি জেনোট্রান্সপ্লান্ট অঙ্গগুলো মানব শরীরে কার্যকর প্রমাণিত হয় (এক প্রাণীর অঙ্গ অন্য প্রাণীতে প্রতিস্থাপন করাকে জেনোট্রান্সপ্লান্ট বলা হয়)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান গবেষণা জেনোট্রান্সপ্লান্ট এর দিকে একটি বড় ধাপ  অতিক্রম করেছে।  কারণ সম্প্রতি এন ওয়াই ইউ ল্যাঙ্গোন ট্রান্সপ্লান্ট ইনস্টিটিউটের ডাক্তাররা দাবি করেছেন যে প্রথমবারের মত তারা সফলভাবে শুকরের কিডনী মানবদেহে…

  • শুরুতেই যেটা বলে নেয়া সবচেয়ে জরুরি সেটা হচ্ছে, “মিসিং লিংক” কথাটা হচ্ছে ট্রানজিশনাল ফসিল(Transitional Fossil) এর একটা অবৈজ্ঞানিক নাম। তাই আমি এই ছোট্ট লেখাটায় ট্রানজিশনাল ফসিল শব্দটাই ব্যবহার করবো বেশি। মিসিং লিংক কথাটা মূলত এসেছে আরেক অবৈজ্ঞানিক চিত্র দ্যা মার্চ অব প্রগ্রেস থেকে। কিন্তু, বিবর্তন এভাবে সরল রৈখিকভাবে চলে না। বিবর্তন মানেই বৈচিত্র্য। জীবাশ্মবিদ জন হকস এর ভাষ্যে— “Missing link is an outmoded term in biology, which I have to say most of us think should be forgotten and never used.” জীবাশ্ম বা ফসিল কী?  জীবাশ্ম বা ফসিল হলো প্রাচীন জীবদের সংরক্ষিত অবশেষ বা ছাপ।প্রাগৈতিহাসিক যুগের…

  • জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। সেই আফ্রিকাতেই এমন এক ম্যালেরিয়ার উদ্ভব ঘটল, যাকে আর্টেমিসিনিন (Artemisia annua  নামক উদ্ভিদ থেকে তৈরি ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক) দ্বারা পরাস্ত করা সম্ভব না। ২০০০ সালের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই পরজীবীগুলোর উদ্ভব ঘটে, যা ক্রমাগত ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধককে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিচ্ছে। এই ঝুঁকিতে আফ্রিকা অগ্রগামী। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যানানুসারে ঐ অঞ্চলে ম্যালেরিয়ায় প্রায় ৪,০৯,০০০ মানুষ মারা গিয়েছে। দুটি সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র প্রমাণ দেয় যে ভয়ঙ্কর ম্যালেরিয়া এখন ঐ মহাদেশে পা রেখেছে। স্যান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির ম্যালেরিয়া গবেষক ফিলিপ রোজেনথাল এই ফলাফল গুলোকে “গেম-চেঞ্জার” বলে আখ্যা দিয়েছেন। আপাতত, এমন কোন প্রমাণ…

  • “The surface of the earth is the shore of cosmic ocean.” মানে, এই পৃথিবী হল এক মহাজাগতিক সমুদ্রের বেলাভূমি।  কথাটা বেশ কাব্যিক, তাই না? কিন্তু এই বাক্যটির ভেতরে এই মহাজগতের এক চরম সত্য নিহিত রয়েছে। সেই আদিকাল থেকেই বর্হিজাগতিক প্রাণ নিয়ে মানুষের আগ্রহের কোন কমতি নেই। অনেক নামকরা বিজ্ঞানীরাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না। আজ যে মানুষটির কথা বলব, তিনি জীবনের বলা চলে বেশিরভাগ সময়ই ব্যয় করেছেন মহাকাশ গবেষণায় এবং বর্হিজাগতিক প্রাণের সন্ধানে। উপরের যে উক্তিটি লিখেছি, তার স্রষ্টা এই বহুগুণে গুনান্বিত মানুষটি। তাকে বলা হয় বিজ্ঞানভিত্তিক সভ্যতার প্রবক্তা। মানুষটির পুরো নাম কার্ল এডওয়ার্ড সাগান, জন্মগ্রহণ করেন…

  • মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং এর পর, ২০০০’র দশকে, আমাদের ডিএনএ-র অর্ধেকেরও বেশিকে ধরে নেয়া হতো অপ্রয়োজনীয়। বলা হতো এগুলো বিবর্তনের “বাতিল মাল”, নষ্ট হয়ে যাওয়া “ভাঙা-জিন”, জিনোমের কারাগারে আটকে পড়া ভাইরাসের ডিএনএ-ফসিল যেগুলোর প্রকাশ “চুপ” করে দেয়া হয়েছে। ভাবা হতো, এসব বাতিল ডিএনএ জীবের কোন প্রয়োজনে আসে না, বিবর্তনের সাথে সম্পর্কহীন। তব গত দশকে অনেকগুলো গবেষণা একে একে দেখাচ্ছে যে এসব “বাতিল ডিএনএ”-র একটি অংশ একদম অকেজো নয়। আমাদের সম্পুর্ণ জিনোমের তুলনায় জিনের পরিমাণ খুবই কম, মাত্র ২ শতাংশ, যারা বিভিন্ন প্রোটিন তৈরি করতে পারে। কিছু তথাকথিত ‘অকেজো’ ডিএনএ বিভিন্ন জিনের প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে বলে…

  • বিজ্ঞানীরা যা ভেবেছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি পানি মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুর নীচে থাকতে পারে  বা সেখানে এমন কিছু ঘটতে পারে যা বিজ্ঞানীদের ধারণারও বাইরে। ২০১৮ সালে, ইউরোপের মার্স এক্সপ্রেস মহাকাশযান দ্বারা সংগৃহীত রাডার ডেটা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ঘোষণা করেছিলেন যে তারা রেড প্ল্যানেট তথা মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে একটি বড় উপতল হ্রদের চিহ্ন পেয়েছেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হ্রদটি প্রায় ১২ মাইল (১৯ কিলোমিটার) প্রশস্ত এবং এটি শুষ্ক, হিমশীতল পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ মাইল (১.৬ কিমি) নিচে অবস্থিত। ঐ গবেষকেরা এর পরপরই মার্স এক্সপ্রেস যন্ত্র ব্যবহার করেন, যেটাকে মার্স অ্যাডভান্সড রাডার ফর সাবসারফেস এবং আয়নোস্ফিয়ারিক সাউন্ডিং বা সংক্ষেপে মার্সিস…

  • এক সময় বলা হতো সকল তেল-চর্বিই খারাপ। তবে আজকাল শোনা যাচ্ছে, তেল-চর্বির মধ্যেও ভালো মন্দ আছে। এখন আমরা জানি, ট্রান্স ফ্যাট স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। বিপরীতে পলিআনস্যাচুরেটেড এবং মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের জন্য ভালো। অন্যদিকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ভালোমন্দের মাঝামাঝি।  বহুদিন ধরেই পুষ্টিবিদ আর চিকিৎসকরা আমাদের খাদ্যতালিকায় তেল-চর্বি বাদ দেয়ার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু দেখা গেলো, খাবার থেকে তেল-চর্বি বাদ দিয়ে দিলে তা আমাদের ভালো স্বাস্থ্য দেয় এমনটা নয়। এর কারণ হলো ‘খারাপ’  ফ্যাট বাদ দিতে গিয়ে আমরা ‘ভালো’ ফ্যটও বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ট্রান্সফ্যাট, পলিআনস্যাচুরেটেড বা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এইসব গোলমেলে শব্দ দিয়ে ঠাসা ডায়েট-বিষয়ক কথাবার্তা আমাদের বিভ্রান্ত করে ফেলে।…

  • ১৮৫৯ সালে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে বসে জনৈক ডাক্তার, চার্লস হ্যারিসন ব্ল্যাকলি একটা হাঁচি দিয়েছিলেন। সেই সাথে তিনি স্বর্দি, চোখ খচখচ, কাশিতেও কষ্ট পাচ্ছিলেন। সবগুলোই হে ফিভারের(Hay Fever) এর চিরাচরিত উপসর্গ। হে ফিভার সম্পর্কে অনেক দিন ধরেই মানুষ জানত। কেন বা কি কারণে হয় সে সম্পর্কে অনেকের অনেক রকম ধারণা ছিল। জনপ্রিয় গুলোর মধ্যে প্রথমেই ছিল গরম, তার পরেই ছিল ওজোন। তবে ব্ল্যাকলি প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ছিলেন বদ্ধ পরিকর। ঐতিহাসিক কারণেই এলার্জি সম্পর্কে কথা বলতে গেলে হে ফিভারের কথা চলে আসে। বৈজ্ঞানিক লিটারেচারে প্রথম হে ফিভারের বর্ণনা পাওয়া যায় জন বোস্টকের ১৮১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে। যেখানে তিনি…

  • প্রায়ই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় ভ্রমণকারীদেরকে সাহস যোগাতে বন্য প্রাণীদের সম্পর্কে একটি কথা বলা হয়ে থাকে, “আপনি তাদেরকে যতটা না ভয় পান, তার থেকেও বেশি তারা আপনাকে ভয় পায়।“ ভাল্লুক, পুমা, চিতা ইত্যাদি প্রাণীরা আমাদেরকে তাদের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ভীতি দেখিয়ে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু মানুষ এই প্রাণীদের তুলনায় ধীর এবং দুর্বল। তাহলে এই প্রাণীরা কেন আমাদেরকে ভয় পাবে? আর যদি ভয়ই পায়, তাহলে প্রতি বছর বন্য প্রানীদের আক্রমণে হাজার হাজার মানুষ মারা যায় কেন? জন্তুরা যখন ভয় পায় আমাদেরকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রমণ না করার পেছনে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। শারীরবৃত্তীয় অবস্থান থেকে যদি দেখি, তাহলে আমরা মূলত…