• সাধারণ টর্চলাইট এবং লেজার। একটি জায়গায় এদের দুইজনের মিল বেশ লক্ষণীয়। এরা উভয়েই উৎপন্ন করে আলো। কিন্তু সেই আলোর প্রকৃতিতে রয়েছে যোজন যোজন পার্থক্য। বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য লেজার থেকে উৎপন্ন আলোকে সাধারণ আলো থেকে আলাদা করেছে। যেমনঃ সাধারণ আলো পথ চলতে চলতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু লেজার রশ্মি একই সরলরেখা বরাবর সোজা চলতে থাকে। অর্থাৎ, ছড়ায় না। আবার, লেজার রশ্মির তীব্রতা সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সাধারণ আলো যেখানে সাতটি বর্ণের আলোর সমন্বয়ে গঠিত, সেখানে লেজার রশ্মি মনোক্রোমাটিক বা এক বর্ণী। অর্থাৎ, এতে শুধুমাত্র একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর অস্তিত্ব থাকে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো লেজার রশ্মিকে করেছে…

  • মিথ আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি শব্দ। ইংরেজি এই শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ আপনাদের জানা আছে? আমি বলে দিচ্ছি। পুরাকথা বা জনশ্রুতি। এই মিথের সাথে যদি কখনও বিজ্ঞানের মিশেল ঘটে? ধুর, সেটাও কি  কখনও সম্ভব? জনশ্রুতি আর বিজ্ঞান, তারা কিভাবে একে অপরের পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে? এ যে তেল আর পানির মিশ্রণের কথা মনে করিয়ে দেয়, যারা একই মিশ্রণে থেকেও না মিশে গিয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে! আজ আপনাদের এমনই এক বিজ্ঞান ঘেঁষে চলা আধুনিক মিথের গল্প শোনাব। বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বেশ কিছু জায়গা নিয়ে কিছু মিথ আমরা শুনেছি। অনেকেই বলেন, এই সব জায়গায় রহস্যময় সব ঘটনা ঘটে যা মানুষের…

  • ওলবার প্যারাডক্সের সূত্রপাত জার্মান বিজ্ঞানী হেনরিক উইলহেম ওলবারের হাত ধরে ১৮২৩ সালে। এটি আসলে খুব সাধারণ নিরীহ একটি প্রশ্ন। আর সেটি হল যে, ‘রাতের আকাশ অন্ধকার কেন?’ অত্যন্ত সরল এই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানীদের অনেক আগে থেকেই জানা ছিল। ঘূর্ণনশীল পৃথিবীর যে পৃষ্ঠ দিনের বেলায় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, সেটাই রাতের বেলাতে বিপরীত দিকে চলে যায়। সূর্যের আলোর অনুপস্থিতে আকাশ অন্ধকার দেখায়। আর দিনের বেলায় সূর্যের তীব্রতার দরুন দেখতে না পাওয়া নক্ষত্রগুলো রাতের বেলাতে দৃশ্যমান হয়। এরপর দৃশ্যপটে এলেন ওলবার। গোটা বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করলেন একটু ভিন্নভাবে। তার সময়ে সমগ্র মহাবিশ্বকে অসীম হিসেবে বিবেচনা করা হত। অসীম…

  • বিজ্ঞানীরা নভম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে অন্তত ৬৬ মিলিয়ন বছর আগের একটি সংরক্ষিত ডাইনোসর ভ্রূণ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, যেটি মুরগির বাচ্চার মতো ডিম থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জীবাশ্মটি দক্ষিণ চীনের গ্যাঞ্জোতে পাওয়া গিয়েছিল এবং এটি একটি দাঁতবিহীন থেরোপড ডাইনোসর বা ওভিরাপ্টোরোসরের অন্তর্গত, যাকে গবেষকেরা “বেবি ইংলিয়াং” নামে অভিহিত করেছেন। গবেষণার যৌথ লেখক এবং চায়না ইউনিভার্সিটি অফ জিওসায়েন্সেস (বেইজিং) এর অধ্যাপক লিডা জিং বলেছেন, “ডাইনোসর ভ্রূণটি ইংলিয়াং গ্রুপের পরিচালক  লিয়াং লিউ ২০০০ সালের দিকে পেয়েছিলেন। ২০১০ সালে ইংলিয়াং স্টোন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম এর কর্মীরা স্টোরেজের মাধ্যমে সাজান এবং নমুনাগুলি আবিষ্কার করেন।“ আইসায়েন্স জার্নালের একটি গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ও বার্মিংহাম…

  • সামুদ্রিক অক্টোপাসের সাথে খেলা অ্যাকোয়ারিস্ট স্টেসি টনকিনের কাজের অংশ। ডেভি জোনস নামের একটি অক্টোপাসের সাথে তার ভালোই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। সে যখন খাবার দেয়, তখন অক্টোপাসটি স্বতস্ফূর্তভাবে তার গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে। সাধারণত অক্টোপাস প্রায় চার বছর বেঁচে থাকে, তাই এই এক বছর বয়সী অক্টোপাসটি স্টেসির কাছে অনেকটা কিশোরের মতোই। স্টেসি ব্রিস্টল অ্যাকোয়ারিয়ামের পাঁচজন অ্যাকোয়ারিস্টের একটি দলের একজন সদস্য। তিনি অনেকদিন ধরেই অক্টোপাসটিকে পর্যবেক্ষণ ও যত্ন করছেন। তার মতে, অক্টোপাসের নির্দিষ্ট ও সুসংজ্ঞায়িত অনুভূতি রয়েছে। ডেভি জোনস (সংক্ষেপে ডিজে) তার মেজাজের সাথে সাথে নিজের রংও বদলায়। স্টেসি বলেন, “অক্টোপাস তার চোখের মাধ্যমে তার বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ করে।“…

  • (অনুবাদক: এডাম রুবেন একজন বিজ্ঞানী। পিএইচডি অর্জন করেছেন জীববিজ্ঞানে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বিখ্যাত সায়েন্স ম্যাগাজিনের তিনি এক্সপেরিমেন্টাল ইরর নামের একটি কলাম লিখেন। একই সাথে তিনি একজন স্ট্যান্ডাপ কমেডিয়ানও বটে। ফলে তাঁর লেখাতে মাঝে মধ্যেই কমেডিক পাঞ্চ নিয়ে আসেন। তাঁর লেখা পড়ার সময় তাই পাঠকদের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। যেমন এই লেখায় পস্ট-ডককে নিকৃষ্ট জীবের সাথে তুলনা করেছেন। হা হা। নীচের লেখাটি তাঁর লেখা How to read a scientific paper এর অনুবাদ। বিজ্ঞান ব্লগের পাঠকদের জানিয়ে রাখতে চাই গবেষণাপত্র যেভাবে পড়তে হয়: পর্ব ২ ও খুব শীঘ্রই আসবে বিজ্ঞান ব্লগে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন।) গবেষণাপত্র পড়ার…

  • কখনও আমার মন খারাপ হলে বাসার ছাদে গিয়ে বসি। সেখানে প্রিয় একটা জায়গা আছে, ওখানটায় বসলে মৃদু মন্দ বাতাসে মনটা ভাল হয়ে যায়। নির্বাক চেয়ে থাকি রাতের আকাশপানে। কি বিশাল একটা কালো রঙের চাদরে আমার আকাশটা মোড়ানো থাকে! চাদরটার গায়ে আবার ছোট ছোট চকমকে পুতি দিয়ে নকশা করা! ব্যাপারটা আমারই বোঝার ভূল, ওগুলো তো আসলে কোন পুতি নয়। তারা একেকজন বিশাল আকৃতির গ্রহ-নক্ষত্র। আমাদের এই পৃথিবী থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকবার কারণে তাদের এমন ছোট মনে হয়। কিভাবে তাদের জন্ম হয়?সারাজীবন তারা কি একই রকম থাকে? নাকি একটা নির্দিষ্ট সময় পরে তাদেরকেও আমাদের মত বার্ধক্যের পরিনতি বরণ…

  • যদি জিজ্ঞাস করা হয় এমন একটি  সঙ্ক্রামক রোগের নাম যার কারণে গত বিশ বছরে প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ মারা গিয়েছে। মৃতের এত বড় সংখ্যা দেখে হয়ত অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যাবে। কিন্তু রোগের নামটি মাথায় আসবে না। এই নিরব প্রাণঘাতী রোগটির নাম ইনফ্লুয়েঞ্জা অথবা সিজলান ফ্লু। এটি হয়ে থাকে ইনফ্লুএঞ্জা ভাইরাস দ্বারা। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (WHO) মতে ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর বিশ্বে তিন থেকে ছয় লাখের মত মানুষ মারা যায়। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্য। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকারভেদঃ   এখন পর্যন্ত মোট চার প্রকারের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছে। এদেরকে বলা হয় টাইপ-এ, টাইপ-বি, টাইপ-সি, এবং…

  • বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার এই যুগে বাংলাদেশও ধীরে ধীরে ম্যারাথনের পথ অতিক্রম করছে ‌‌‌‌‌‌‌। এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন অলিম্পিয়াডের প্রত্যক্ষ ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। তন্মধ্যে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অন্যতম। প্রতিবছর বহু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে নিজের দক্ষতার জানান দেয়। আমরা বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড গোল্ড, সিলভার এবং ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছি। তাই দিনে দিনে আগ্রহী প্রতিযোগিতা সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  এসব অলিম্পিয়াডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। তবে সবারই একটা প্রশ্ন থাকে, কীভাবে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের জন্য নিজেকে তৈরি করব? তো, আজকের লেখায় আমি এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা কীভাবে প্রস্তুতি…