• এক সময় বলা হতো সকল তেল-চর্বিই খারাপ। তবে আজকাল শোনা যাচ্ছে, তেল-চর্বির মধ্যেও ভালো মন্দ আছে। এখন আমরা জানি, ট্রান্স ফ্যাট স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। বিপরীতে পলিআনস্যাচুরেটেড এবং মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের জন্য ভালো। অন্যদিকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ভালোমন্দের মাঝামাঝি।  বহুদিন ধরেই পুষ্টিবিদ আর চিকিৎসকরা আমাদের খাদ্যতালিকায় তেল-চর্বি বাদ দেয়ার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু দেখা গেলো, খাবার থেকে তেল-চর্বি বাদ দিয়ে দিলে তা আমাদের ভালো স্বাস্থ্য দেয় এমনটা নয়। এর কারণ হলো ‘খারাপ’  ফ্যাট বাদ দিতে গিয়ে আমরা ‘ভালো’ ফ্যটও বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ট্রান্সফ্যাট, পলিআনস্যাচুরেটেড বা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এইসব গোলমেলে শব্দ দিয়ে ঠাসা ডায়েট-বিষয়ক কথাবার্তা আমাদের বিভ্রান্ত করে ফেলে।…

  • ১৮৫৯ সালে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে বসে জনৈক ডাক্তার, চার্লস হ্যারিসন ব্ল্যাকলি একটা হাঁচি দিয়েছিলেন। সেই সাথে তিনি স্বর্দি, চোখ খচখচ, কাশিতেও কষ্ট পাচ্ছিলেন। সবগুলোই হে ফিভারের(Hay Fever) এর চিরাচরিত উপসর্গ। হে ফিভার সম্পর্কে অনেক দিন ধরেই মানুষ জানত। কেন বা কি কারণে হয় সে সম্পর্কে অনেকের অনেক রকম ধারণা ছিল। জনপ্রিয় গুলোর মধ্যে প্রথমেই ছিল গরম, তার পরেই ছিল ওজোন। তবে ব্ল্যাকলি প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ছিলেন বদ্ধ পরিকর। ঐতিহাসিক কারণেই এলার্জি সম্পর্কে কথা বলতে গেলে হে ফিভারের কথা চলে আসে। বৈজ্ঞানিক লিটারেচারে প্রথম হে ফিভারের বর্ণনা পাওয়া যায় জন বোস্টকের ১৮১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে। যেখানে তিনি…

  • প্রায়ই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় ভ্রমণকারীদেরকে সাহস যোগাতে বন্য প্রাণীদের সম্পর্কে একটি কথা বলা হয়ে থাকে, “আপনি তাদেরকে যতটা না ভয় পান, তার থেকেও বেশি তারা আপনাকে ভয় পায়।“ ভাল্লুক, পুমা, চিতা ইত্যাদি প্রাণীরা আমাদেরকে তাদের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ভীতি দেখিয়ে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু মানুষ এই প্রাণীদের তুলনায় ধীর এবং দুর্বল। তাহলে এই প্রাণীরা কেন আমাদেরকে ভয় পাবে? আর যদি ভয়ই পায়, তাহলে প্রতি বছর বন্য প্রানীদের আক্রমণে হাজার হাজার মানুষ মারা যায় কেন? জন্তুরা যখন ভয় পায় আমাদেরকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রমণ না করার পেছনে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। শারীরবৃত্তীয় অবস্থান থেকে যদি দেখি, তাহলে আমরা মূলত…

  • ঊনিশ শতকে চার্লস ডারউইন যখন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ On the Origin of Species প্রকাশ করেন, তখনও বিবর্তন তত্ত্ব কেবল একটা অনুকল্পরূপে ছিলো। আজ প্রায় দেড়শো বছর পর বিবর্তন তত্ত্ব একটি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব।  “বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব” বা Scientific Theory ব্যাপারটা আসলে কি?  সাধারণভাবে “তত্ত্ব” কথাটাকে যতো হালকা ভাবে নেয়া হয়, বিজ্ঞানের বেলায় ঠিক ততোটাই ভারী একটা ব্যাপার সেটা। কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার সর্বোচ্চ সঠিক ব্যখ্যা।  দ্যা স্ট্যানফোর্ড এনসাক্লোপিডিয়া অব ফিলোসোফির ভাষ্যমতে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হচ্ছে, “A scientific theory is an explanation of an aspect of the natural world and universe that can be repeatedly tested and verified in accordance…

  • আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম আশীর্বাদ হলো অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার। অ্যান্টিবায়োটিকের অপর নাম হল অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ড্রাগ। এটি এমন একধরনের ওষুধ যা মানুষ এবং পশু উভয়ের শরীরেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত ইনফেকশনের (বা রোগ সংক্রমণ) বিরুদ্ধে লড়াই করে। এক্ষেত্রে তারা হয় ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে, নয়তো ব্যাকটেরিয়ার দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার রোধ করে। ব্যাকটেরিয়া হলো নিউক্লিয়াসবিহীন এককোষী, আণুবীক্ষণিক অণুজীব। এর প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০। সব ব্যাকটেরিয়াই খারাপ নয় বরং অনেক ব্যাকটেরিয়াই, এমনকি আমাদের অন্ত্রে বাস করা যারা অত্যন্ত উপকারী। তবে ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতিকর দিকই সচরাচর আমাদের নজরে বেশি পড়ে।   অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট এর সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। সাধারণত ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ থেকে…

  • কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল হলো মহাবিশ্বের এমন একটি এলাকা, যেখানে প্রবল মাধ্যাকর্ষণ বল বিরাজমান। এ বল এতটাই শক্তিশালী যে ওই এলাকা থেকে আলোকরশ্মিও বের হতে পারে না। বিজ্ঞানীদের মতে, বিপুল ভরের কোনো নক্ষত্রের মৃত্যুর পর তা কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়। সময়ের সঙ্গে ক্রমেই বৃদ্ধি পায় কৃষ্ণ গহ্বরের (Black Hole) চেহারা। ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে নিজের গবেষণায় প্রাপ্ত এই তত্ত্বের কথা জানিয়েছিলেন কিংবদন্তী পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম বিজ্ঞানী হকিংয়ের একটি পূর্বাভাসকে অবশেষে সঠিক প্রমাণ করল ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর অবশেষে প্রমাণিত হল হকিংয়ের তত্ত্ব।  ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাইগো’ অবজারভেটরিতে ধরা পড়া এক মহাকর্ষীয়…

  • বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে অনেকেই আগ্রহী, অনেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট করে পেপার পাবলিশ করতে চায়। বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করার জন্য নানা ধরনের টিউটোরিয়ালও রয়েছে ইন্টারনেটে। অনেকক্ষেত্রেই এই টিউটোরিয়ালগুলো টেকনিক্যাল হয়ে যায়। টেকনিক শেখা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে ভাবতে শেখা, প্রশ্ন করতে শেখা। বায়োইনফরমেটিক্সের জটিল সফটওয়্যার ও প্রোগ্রাম শিখতে গিয়ে, ডেটা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনেক সময় সে মৌলিক প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবার কাজটা হারিয়ে যায়। যে কোন বায়োইনফরমেটিক্স প্রজেক্টে অনেক ধরণের কাজ থাকে। অনেক সময় একটা ছোট প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হয়। আবার সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর ভিন্ন প্রশ্ন এসে আমাদের অপ্রস্তুত…

  • আজকের টপিকটা খানিক স্পর্শকাতর বটে। আধুনিকায়নের এই যুগে সমগ্র বিশ্ব এখনো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, বর্ণবাদ’কে ম্লান করতে। একটু ভেবে দেখুন তো- শুধুমাত্র গায়ের রঙ, জাতি বা গোত্রের উপর ভিত্তি করে মানবজাতিতে বিভক্তি। একে অন্যের উপর বৈষম্যমূলক আচরণ। যেটা অবশ্যই একটি সভ্য দেশের উন্মুক্ত চিন্তাধারার প্রধান অন্তরায়। বর্ণবাদ নিয়ে প্রচুর লিখালিখি হয়, প্রতিবাদ হচ্ছে তবু কিছু সংকীর্ণ মনের মানুষের মূল্যবোধ বিকশিত হয়না। এখন, আপনি ভাবতেই পারেন- এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য কি তাহলে? প্রশ্ন রাখতে পারেন আমাকে- আপনি কি ম্যাজিশিয়ান?  এই এক লিখায় দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেবেন? সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে, এই নিবন্ধ লিখার কারণ হচ্ছেঃ- কিভাবে মস্তিষ্ক বর্ণবাদী আচরণ ঘটায়,…

  • এই মহাবিশ্বে পৃথিবী ছাড়া রয়েছে আরও অসংখ্য গ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, গ্রহাণু । তাদের কতগুলো সম্পর্কে আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি? এই বিশাল মহাজাগতিক রাজ্যে আমরা শুধুমাত্র একটি বালির দানার মত, যেখানে সমস্ত মরুভূমি এখনও আমাদের অজানা। জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫০০ টি উল্কা, এছাড়া প্রায় ৫,২৫,০০০ টি এস্টেরয়েড শনাক্ত করতে পেরেছেন।  কিন্তু ওউমুয়ামুয়া এদিক দিয়ে একেবারেই স্বতন্ত্র একটি অস্তিত্ব । লম্বাকৃতির এই মহাজাগতিক বস্তুটি হঠাৎ করেই ২০১৭ সালে আবিষ্কৃত হয়, যখন এটি প্রচন্ড বেগে সূর্যকে অতিক্রম করে চলে যাচ্ছিল। বৃহদাকৃতি এই বস্তুর গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে অনেক বিজ্ঞানীই বলেছেন, এটি আমাদের এই সৌরজগতের নয়।  খুব সম্ভবত…