• অলসভাবে ইন্টারনেটে ঘুরাঘুরি করতে করতে পৃথিবীর হার্টবিটের খোঁজ পাই। অবাক হলেন? হুম, আমিও প্রথম দেখায় অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি যে এটা এমন একটা বিষয়, যেখানে পদার্থবিজ্ঞান আর জীববিজ্ঞান সহাবস্থান করছে। কিন্তু, বাংলায় এ ব্যাপারে তেমন কোনো কন্টেন্ট পেলাম না। তাই আমিই লিখতে বসে গেলাম। শুম্যান রেজোন্যান্স (Schumann Resonances বা SR) হলো পৃথিবীর আয়নোস্ফিয়ারে উৎপন্ন তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের এক সেট ফ্রিকোয়েন্সি। এই ফ্রিকোয়েন্সিগুলো 7.83 Hz থেকে শুরু হয়। একে পৃথিবীর “হার্টবিট” বলা হয়। এটি নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা করা হয়েছে, কারণ বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন যে এই বিশাল পৃথিবীর পাশাপাশি মানুষের উপরেও এর প্রভাব রয়েছে। কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস…

  • হ্যালো, সবার কী অবস্থা? আগের একটি ব্লগ পোস্টে আমি জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির ব্যাপারে একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন লিখেছিলাম। এরপর অনেকের অনুরোধে নমুনা প্রশ্ন নিয়েও কয়েকটি পর্বে বিশেষ আলোচনা করেছিলাম। সবার কাছ থেকে একদিকে যেমন পজিটিভ ফিডব্যাক পাচ্ছিলাম, তেমনি শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে একটা ছোট্ট আর্টিকেল লেখারও অনুরোধ পেয়েছিলাম। তো, আজকের সব আলোচনা হবে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতিপর্বের উপসংহারের আগের ব্যাপারগুলো নিয়ে। ঝালাই করো গাইডলাইনে আমি বারবার মৌলিক জীববিজ্ঞানের উপর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেছিলাম। যদি মৌলিক বিষয়গুলো (কোষের কার্যাবলি, জিন-অ্যালিল, অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য, সিমবায়োসিস ইত্যাদি) ঠিকঠাক মতো, বুঝে পড়া যায় তাহলে অর্ধেক কাজই শেষ হয়ে যায়। আর প্রস্তুতি পর্বের শেষ…

  • রিভিউটা এক শব্দে- ‘জোস’ লিখেই শেষ করে ফেলব বলে একটা ফাঁকিবাজি চিন্তা মাথায় এসেছিল। কারণ এক হচ্ছে রিভিউ লিখতে আমি পারি না, দুই অলসতা। কিন্তু পরে আবার ভাবলাম লেখকমশাই কষ্ট করে এত সুন্দর একটা বই লিখেছেন, এটুকু কষ্ট করাই যায়। বইটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হচ্ছে এর বিষয়- গল্প, গবেষণার গল্প। তো এটাতে চমকপ্রদতার কী হলো? সেটা হচ্ছে যে, এ পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়া গল্পের পরিমাণ অনেক বেশি, যে গল্পগুলো বলা বা শোনার মানুষ বা ব্যবস্থা বলতে গেলে নেই। ঠিকমতো খুঁজলে এ গল্পগুলো শোনার মানুষের বা বলার মানুষের অভাব হয়তো হবে না, কিন্তু কোনো এক কারণে ব্যাটে-বলে ঠিক…

  • রাতের আকাশে তাকিয়ে আমরা কত সুন্দর সুন্দর অগণিত তারা দেখতে পাই। কোনোটি একটু স্পষ্ট দেখা যায় কোনোটি আবার ঝাপসা। তারাগুলো দেখে আমাদের সবারই মনে হয় আমাদের চোখের সামনে এগুলো যেন প্রাণবন্ত হয়ে আছে। যেন জীবন্ত প্রদীপ রয়েছে চোখের সামনে। তারাগুলো যেন আমাদের সাথেই বর্তমান রয়েছে। এই তারাগুলো কিন্তু আমরা যখন দেখি আসলে ঠিক সেই মুহূর্তের তারা নয়। তারাগুলো থেকে আলো আসতে কতক্ষণ সময় লাগে তার ওপর নির্ভর করে আমরা ঠিক কোন সময়ের তারা দেখছি। আমরা যত বেশি দূরের তারা দেখি, তত বেশি অতীতের তারা দেখি! যেকোনো বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পৌঁছালে তবেই কেবল…

  • জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন দেখতে পাওয়া যায়। কখনো কখনো সারণিতে তথ্য থাকে এবং সেটার আলোকে প্রশ্নের অপশনগুলো যাচাই করতে হয়। এই ব্লগ পোস্টে আমি এমনই ৩টি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রশ্ন তিনটি মূলত আচরণবিদ্যা, বায়োসিস্টেম্যাটিক্স ও কোষতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা। ১. একটি ল্যাবের ৩টি জীবের ব্যাপারে সাধারণ কিছু তথ্য সারণিভুক্ত করা হয়েছে। A. উইপোঁকার বিপরীত আচরণও জীবজগতে পরিলক্ষিত হয়B. ল্যাবের কুকুরটির উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়াটা সহজাত বৈশিষ্ট্যC. মৌমাছির প্রজননকার্যে একটি রানী মৌমাছি ও একটি পুরুষ মৌমাছি অংশগ্রহণ করেD. সারণির মতোই প্রাণিজগতে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য বজায় থাকায় প্রাণীরা আজও টিকে আছে সমাধানঃ A. উইপোকার আচরণটি মূলত…

  • আমরা যারা সাইফাই সিনেমা দেখি, তারা সবাই একটা জিনিস প্রায়ই দেখতে পাই যে মহাকাশে মানুষ নানা মহাকাশযানে থাকছে এবং চলাচলও করছে। বাস্তবে কিন্তু এমন একটি মহাকাশযান সত্যি রয়েছে যা হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা ইংরেজিতে International Space Station (ISS)। বর্তমানে একটি নতুন মহাকাশ স্টেশনের নাম শোনা যাচ্ছে। আর তা হলো চাইনিজ স্পেস স্টেশন তিয়াংগং (Tiangong). এই লেখায় আমি এই নতুন স্পেস স্টেশন সম্পর্কে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করব। তিয়াংগং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা তিয়াংগং একটি চাইনিজ শব্দ যার ইংরেজি অর্থ Palace in the sky আর বাংলা করলে দাড়ায় স্বর্গের রাজপ্রাসাদ। তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৪০…

  • জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড নিয়ে দুই ধরণের কন্টেন্টের বড়ই অভাব ছিল! সে দু’টো হলো গাইডলাইন আর নমুনা প্রশ্ন। আমি ইতিমধ্যে একটা গাইডলাইন এবং নমুনা প্রশ্ন (১ম পর্ব) নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজকে নমুনা প্রশ্নের ২য় পর্ব নিয়ে আসলাম। চলো, শুরু করা যাক! ১. রাফিন একটি ডকুমেন্টারিতে শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থানে গঠিত একটি উপাদান দেখলো, যেটি পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই টিকে থাকতে পারে। এই সহাবস্থানে জীবদ্বয়ের মাঝে ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া ঘটে থাকে। A. উপাদানটি শুধুমাত্র যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করেB. এই সহাবস্থানে শৈবালের কারণে সবসময় ছত্রাক বঞ্চিত হয়C. উপাদানটি বিষাক্ত হওয়ায় এটি ব্যবহারযোগ্য নয়D. উক্ত সহাবস্থানে মিউচুয়ালিজম সংঘটিত হয় সমাধানঃ A. আমরা জানি…

  • বিশেষ করে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা জীববিজ্ঞানকে অপছন্দ করে। কারণ হলো জীববিজ্ঞান আমাদের যেভাবে পড়ানো হয় তার কোন “আগামাথা” নেই, অনেক “মুখস্থ” করতে হয়। পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে যেমন সব বিষয়বস্তু একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত, জীববিজ্ঞানে সেটা না। শ্যামলের মতে, এরকম মনে হওয়ার দায়ভার অনেকটাই এসে পড়ে যেভাবে জীববিজ্ঞান পড়ানো হয় আমাদেরকে তার উপর। এজন্য সে “স্বপ্নপুরী হাইস্কুল” নামের একটা বিদ্যালয় কল্পনা করেছে যেখানে ছাত্রছাত্রীরা কোনকিছু বুঝতে না পারলে সেটার দোষ শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় না, বরং ধরা হয় যেভাবে পড়ানো হচ্ছে সেটতে কোন সমস্যা আছে। এই বইটায় আমরা সবচেয়ে ভালো লেগেছে যেভাবে বিভিন্ন অধ্যায়ে জীববিজ্ঞানের গল্পগুলো বলা হয়েছে।…

  • ভালো করে বাঁচবার আছে যত দিকবিজ্ঞান অবদানে হল মৌলিকসভ্যতা বিকাশের ধারাগুলো জোড়াআগাগোড়া বিজ্ঞান দিয়ে তা মোড়া বিজ্ঞান নিয়ে এমনই এক বাস্তব কবিতা রচনা করেছিলেন সাহিত্যিক আলী ইমাম। আমি তারই কয়েক পঙক্তিই উল্লেখ করলাম। যুগে যুগে সভ্যতার বিকাশে ও মানুষের জীবনকে সুন্দর ও আনন্দময় করতে বিজ্ঞান যে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছে তা কমবয়সী বালকমাত্রও জানে। কিন্তু যারা বিজ্ঞানের এ সকল আবিষ্কার সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছে তারা হলেন বিজ্ঞানীরা। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোন ভূখণ্ড নয় বরং সারা বিশ্বে তারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের আবিষ্কারের দ্বারা। সমাদৃত হয়েছেন সর্বমহলে। ‘বিজ্ঞানী’ কথাটি উচ্চারিত হলেই আমাদের চোখ চলে যায় নিউটন, আইনস্টাইন কিংবা মাদাম…