• কোয়ান্টাম কণাগুলোর অদ্ভুতুড়ে আচরণ মহাবিশ্বের রহস্যময় বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেক সময়েই তাদের আচরণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে একেবারেই মিলে না। উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা যেতে পারে কোন নির্দিষ্ট বিন্দুতে এদের অবস্থানের বিষয়টিকে। যে কোন মুহুর্তে এরা এক জায়গায় অবস্থান করে না। বরং তরঙ্গের মতন করে ছড়িয়ে থাকে। অর্থাৎ, ঠিক কোন বিন্দুতে এদের অবস্থান তা কখনই শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যায় না। সর্বোচ্চ যেটা করা যায় সেটা হল যে, একটি এলাকা নির্ধারণ করা যায়। যার মধ্যে কণাগুলোর অবস্থানের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও ঠিক এমনটাই ঘটে কোয়ান্টাম জগতে।  যে রাশির সাহায্যে কোয়ান্টাম জগতে কণাগুলোর…

  • আজকের পদার্থবিজ্ঞান বহু বছরের পরিক্রমায় শক্তিশালী এবং তথ্যবহুল হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে পুরাতন ইতিহাস, জ্ঞান সাধনা ও বিজ্ঞানীদের অবদান। আজকের প্রবন্ধে আমরা কীভাবে পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ ঘটেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত একটা ধারণা লাভ করতে চলেছি। তো, চলুন, শুরু করা যাক! প্রাচীন যুগ পদার্থবিজ্ঞানের পরিসর অনেক বড়। প্রাচীনকাল থেকে এ পর্যন্ত বহু জ্ঞান যুক্ত হয়েছে বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শাখাটির সাথে। আজকের পদার্থবিজ্ঞানের জন্ম হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং জ্যামিতি থেকে। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম থেলিসের কথা বলা যায়, যাঁকে অনেকে বিজ্ঞানের জনক বলে থাকে। এই গ্রিক শিক্ষাবিদ কার্যকারণ, প্রমাণ ও যুক্তি ছাড়া যেকোনো মতামত বা ঘটনার ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে…

  • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা মানেই হালকা চালে কঠিন কিছু; জটিল কোনো আলাপ — হোক তা দর্শনের, সমাজতত্ত্বের কিংবা বিজ্ঞানের — তাকে ভেঙেচুরে পাঠককে গুলে খাওয়ানো। বাংলা ভাষায় জনপ্রিয় বিজ্ঞানসাহিত্যের এই প্রবাদপ্রতিম লেখক এতোযুগ আগেও কী যে অসাধারণ কাজ করে গেছেন, তা টের পাওয়া যায় তার বিজ্ঞানবিষয়ক লেখাগুলো পড়লে। ‘বিজ্ঞান কী ও কেন’ সে বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এই দুনিয়ার চিড়িয়াখানা’ আর ‘ক্ষুদে শয়তানের রাজত্ব’-এ রচনা করেছেন প্রাণিবিদ্যা এবং অণুজীববিদ্যার মুখপাত, আবার জৈব ও সামাজিক বিবর্তনকে এক সুতোয় এনে বলেছেন এমন এক গল্প — ‘যে গল্পের শেষ নেই’। সেই ধারারই একটি বই ‘পায়ের নখ থেকে মাথার চুল’। পায়ের নখ…

  • ভারী নক্ষত্র তার জীবনকালের একদম শেষে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে তার সকল পদার্থ মহাকাশে ছড়িয়ে দিয়ে মৃত্যুবরণ করে। আর এই বিস্ফোরণকেই আমরা বলি সুপারনোভা। গত ২০২১ এ ন্যাচার পত্রিকায় প্রকাশিত একটা প্রবন্ধে নতুন একধরনের সুপারনোভার সন্ধান দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা এটার নাম দিয়েছেন “ইলেক্ট্রন-ক্যাপচার সুপারনোভা”। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রাজুয়েট ছাত্র ডাইচি হিরামাটচু (Daichi Hiramatsu) গ্লোবাল সুপারনোভা প্রজেক্টের একজন সদস্য, যেখানে সারা পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীরা ডজনের উপর টেলিস্কোপ দিয়ে সুপারনোভা নিয়ে কাজ করছেন। ডাইচি এবং তার দল পৃথিবী থেকে ৩১ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সি NGC2146 তে অবস্থিত SN 2018zd সুপারনোভাকে পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, SN 2018zd সুপারনোভাটি আসলে…

  • অনেক সময় আমরা পেপার-পত্রিকায়  দেখি যে নাসার বিজ্ঞানীরা বা অমুক বিজ্ঞানীরা মহাকাশের তমুক জায়গায় প্রাণের অস্তিত্ব পেয়েছেন অথবা প্রাণের অস্তিত্ব আশা করছেন। আমরা কি ভেবে দেখেছি বিজ্ঞানী কিভাবে বলেন প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে। অনেকেই ভেবেছিলেন কিন্তু জানতে পারেন নি। এবার জেনে নিন কিভাবে প্রাণের অস্তিত্বের খোঁজ করা হয়।  কখনো কখনো আমরা সাধারণ মানুষেরা মনে করে থাকি, এমনও হতে পারে পৃথিবীর বাইরের প্রাণীরা অক্সিজেন গ্রহণ করে না, ওরা অন্য কোনো গ্যাস গ্রহণ করে হয়তো। বা এমন কি কোনো বাধ্য বাধকতা আছে যে পৃথিবীসহ বিশ্বের সকল প্রাণীর বাঁচতেবাচতে হলে অক্সিজেন গ্রহণ করতে হবে ? কিন্তু সত্যি কথা…

  • Taxis এবং Nomos শব্দদ্বয় থেকে উৎপত্তি লাভ করা Taxonomy শব্দটি দ্বারা আমরা বুঝি জীবের শ্রেণিবিন্যাস। উদ্ভিদ, প্রাণী কিংবা অন্য কোনো জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তাদের অনেককেই ট্যাক্সোনোমি বা শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক জ্ঞানকে সাথে নিয়ে চলতে হয়। দে ক্যান্ডল কর্তৃক ব্যবহৃত এই শব্দটির পরিধি ব্যাপক। তাই বিভিন্ন বিজ্ঞানী একে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে সংজ্ঞায়িত করেছেন। সিম্পসন এর মতে, জীবের শ্রেণিবিভাগের (Classification) এর ভিত্তি, উদ্দেশ্য, নিয়ম-কানুন ইত্যাদি বিষয়ের সমষ্টিগত রূপ বা আলোচনা হলো শ্রেণিবিন্যাস (Taxonomy)। তবে মায়ার আরো সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা প্রদান করেছিলেন। তিনি শ্রেণিবিভাগ বা Classification সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও আলোচনার ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক দিককে ‘শ্রেণিবিন্যাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।…

  • শীতটা বোধহয় এবার একটু বেশিই জেঁকে বসেছে। বলা চলে, একবারে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। কুয়াশার ঘন চাদরে ঢেকে গিয়েছে পরিবেশ। যখনই নিশ্বাস ছাড়ছি, যেন ছোট ছোট কুয়াশার স্তুপগুলো পাঁক খেয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে। চাদরটা ভাল ভাবে পেঁচিয়ে বারান্দার দিকে এগিয়ে গেলাম। ঠান্ডায় জমে যাবার ভয়ে চেয়ারে পা তুলে বসলাম৷ হাতে গরম কফি, এই তীব্র ঠান্ডায় কফির কাপের উষ্ণতা বেশ আরামদায়ক মনে হল। ছোট একটা চুমুক দিয়ে তাকালাম ওই আকাশপানে। এই কুয়াশার ঘন চাদর ভেদ করেও কয়েকটি তারার ঘোলাটে আলো দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ করেই মাথায় আজব প্রশ্নটি উঁকি দিল৷  আচ্ছা, আমি তো একটা প্রাণী, প্রাণ আছে। খাই, দাই,…

  • শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এরকম কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। কিন্তু সেই শিক্ষাকে যদি আমরা আনন্দময় করে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের শিক্ষাকে ঘিরে আমাদের জাতির প্রত্যাশা কখনোই পূরণ করা সম্ভবপর হবে না। শিক্ষাকে আনন্দময় করার এক কঠিন মিশন নিয়েই বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে বিভিন্ন ধরণের বিজ্ঞানভিত্তিক সংস্থা ও সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখনো কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজই হলো বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে সহজলভ্য করে উপস্থাপনা করা এবং একে অবলম্বন করেই যেন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে একজন বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও দশের সেবা করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। এছাড়াও বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও তাদের শিক্ষার্থীদের সাথে যাতে আমাদের দেশের…

  • টিক টিক টিক! ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে। দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যেকটা কাজে ঘড়ি দেখতে হয় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই ভার! কিন্তু ঘড়িতে আমরা যা দেখি তাই কি আসলে প্রকৃত সময়? আমাদের ঘড়িতে দেখা সময়ের সাথে আসলে কতটুকু মিল রয়েছে মহাবিশ্বের সময়ের? সময়কে আমরা যেভাবে ভাবি, সময় কি আসলেই তাই? নাকি শুধুই আমাদের চোখের ধাঁধা? সময়কে এমন একটি সার্বজনীন পটভূমি বলে মনে করা হয়, যার মধ্যে দিয়ে মহাবিশ্বের সমস্ত ঘটনাবলি এগিয়ে যায় এবং যা পর্যায়ক্রমে প্রবাহিত হয়, যার একটি ব্যাপ্তি রয়েছে। কিন্তু এক সেকেন্ড থেকে পরবর্তী সেকেন্ডে এগিয়ে যাওয়া – সময়ের প্রবাহ কি এতটাই সরল? সময় বাস্তব,…