• মহাকাশ বিজয় নিয়ে যুদ্ধ কম হয়নি। এখনও হচ্ছে তবে এই যুদ্ধের শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন। তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন আর আমেরিকার মধ্যে চলছিল কে কত আগে মহাকাশে নিজের আধিপত্য বিস্তার করবে। এতে অবশ্য দিনশেষে লাভ হয়েছে বিজ্ঞানেরই।  মহাকাশ বিজয়ের প্রথম দিকে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন কারণ মহাকাশে প্রথম উপগ্রহ পাঠানো বা মানুষ পাঠানোর কাজগুলো তারাই প্রথম করেছিল। তারাই প্রথম পৃথিবীর বাইরে কোনো গ্রহে মিশন পরিচালনা করে এবং তারাই প্রথম পৃথিবী ব্যতিত অন্য কোন গ্রহের বায়ুমন্ডল স্পর্শ করে।  ভেনেরা মিশন সেই সময়ে চলা সিরিজ মিশন। ভেনেরা একটি রাশিয়ান শব্দ যার অর্থ Venus যাকে আমরা বলি শুক্রগ্রহ। ভেনেরা…

  • ১. দুটো থট এক্সপেরিমেন্ট। বক্কর ভাইয়ের কাছে এক গ্লাস পানি আছে। বক্কর ভাই একটু বিজ্ঞানী-কিসিমের মানুষ। তার দেখতে ইচ্ছে হলো পানির তাপমাত্রা কতো। তিনি মেপে দেখলেন সাতাশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মোটামুটি কক্ষ তাপমাত্রা। তার মনে হলো পানির এতো গরম থাকবার কোনো কারণ নেই। তিনি পানিটুকু ঠাণ্ডা করতে শুরু করলেন। কী ঘটবে এবার? প্যারালাল ইউনিভার্সে তার অনুজ লক্কড় ভাই’ও খানিকটা বিজ্ঞানী-কিসিমের মানুষ। তার সামনে পানি নেই, আছে বরফ। বরফের আদর্শ তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি,এ মোটামুটি সবারই জানা। তার ইচ্ছে হলো বরফটাকে একটু তাপ দেয়া যাক। ভাবুন, কী ঘটবে এবার? ২. মোটামুটি ক্লাস এইট-নাইনে পড়া একটা ছেলে বা মেয়ে জানে,কোনো…

  • মহাবিশ্বে এমন অনেক রহস্যঘেরা বস্তু আছে যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব না হলেও যার অস্তিত্ব প্রমাণে মানুষ করে যাচ্ছে নিরন্তর গবেষণা। এমনই একটি মহাজাগতিক বস্তু হল ডার্ক স্টার। ডার্ক স্টারের অন্তর্নিহিত গঠনে ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি থাকার কারণে এর এমন নামকরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের একদম শুরুর দিকে গঠিত নক্ষত্রগুলোই ডার্ক স্টার। ডার্ক স্টার যে আসলেই ডার্ক, এমনটা কিন্তু নাও হতে পারে। এমনও হতে পারে যে ডার্ক স্টার আমাদের চেনা-পরিচিত তারাগুলোর চেয়েও উজ্জ্বল!  প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছর আগে যখন মহাবিশ্বের রূপ আজকের মহাবিশ্বের থেকে অনেক ভিন্ন ছিল- যখন মহাবিশ্ব অত্যধিক ঘন ও উত্তপ্ত ছিল তখনই…

  • কোয়ান্টাম কণাগুলোর অদ্ভুতুড়ে আচরণ মহাবিশ্বের রহস্যময় বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেক সময়েই তাদের আচরণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে একেবারেই মিলে না। উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা যেতে পারে কোন নির্দিষ্ট বিন্দুতে এদের অবস্থানের বিষয়টিকে। যে কোন মুহুর্তে এরা এক জায়গায় অবস্থান করে না। বরং তরঙ্গের মতন করে ছড়িয়ে থাকে। অর্থাৎ, ঠিক কোন বিন্দুতে এদের অবস্থান তা কখনই শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যায় না। সর্বোচ্চ যেটা করা যায় সেটা হল যে, একটি এলাকা নির্ধারণ করা যায়। যার মধ্যে কণাগুলোর অবস্থানের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও ঠিক এমনটাই ঘটে কোয়ান্টাম জগতে।  যে রাশির সাহায্যে কোয়ান্টাম জগতে কণাগুলোর…

  • আজকের পদার্থবিজ্ঞান বহু বছরের পরিক্রমায় শক্তিশালী এবং তথ্যবহুল হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে পুরাতন ইতিহাস, জ্ঞান সাধনা ও বিজ্ঞানীদের অবদান। আজকের প্রবন্ধে আমরা কীভাবে পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ ঘটেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত একটা ধারণা লাভ করতে চলেছি। তো, চলুন, শুরু করা যাক! প্রাচীন যুগ পদার্থবিজ্ঞানের পরিসর অনেক বড়। প্রাচীনকাল থেকে এ পর্যন্ত বহু জ্ঞান যুক্ত হয়েছে বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শাখাটির সাথে। আজকের পদার্থবিজ্ঞানের জন্ম হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং জ্যামিতি থেকে। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম থেলিসের কথা বলা যায়, যাঁকে অনেকে বিজ্ঞানের জনক বলে থাকে। এই গ্রিক শিক্ষাবিদ কার্যকারণ, প্রমাণ ও যুক্তি ছাড়া যেকোনো মতামত বা ঘটনার ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে…

  • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা মানেই হালকা চালে কঠিন কিছু; জটিল কোনো আলাপ — হোক তা দর্শনের, সমাজতত্ত্বের কিংবা বিজ্ঞানের — তাকে ভেঙেচুরে পাঠককে গুলে খাওয়ানো। বাংলা ভাষায় জনপ্রিয় বিজ্ঞানসাহিত্যের এই প্রবাদপ্রতিম লেখক এতোযুগ আগেও কী যে অসাধারণ কাজ করে গেছেন, তা টের পাওয়া যায় তার বিজ্ঞানবিষয়ক লেখাগুলো পড়লে। ‘বিজ্ঞান কী ও কেন’ সে বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এই দুনিয়ার চিড়িয়াখানা’ আর ‘ক্ষুদে শয়তানের রাজত্ব’-এ রচনা করেছেন প্রাণিবিদ্যা এবং অণুজীববিদ্যার মুখপাত, আবার জৈব ও সামাজিক বিবর্তনকে এক সুতোয় এনে বলেছেন এমন এক গল্প — ‘যে গল্পের শেষ নেই’। সেই ধারারই একটি বই ‘পায়ের নখ থেকে মাথার চুল’। পায়ের নখ…

  • ভারী নক্ষত্র তার জীবনকালের একদম শেষে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে তার সকল পদার্থ মহাকাশে ছড়িয়ে দিয়ে মৃত্যুবরণ করে। আর এই বিস্ফোরণকেই আমরা বলি সুপারনোভা। গত ২০২১ এ ন্যাচার পত্রিকায় প্রকাশিত একটা প্রবন্ধে নতুন একধরনের সুপারনোভার সন্ধান দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা এটার নাম দিয়েছেন “ইলেক্ট্রন-ক্যাপচার সুপারনোভা”। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রাজুয়েট ছাত্র ডাইচি হিরামাটচু (Daichi Hiramatsu) গ্লোবাল সুপারনোভা প্রজেক্টের একজন সদস্য, যেখানে সারা পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীরা ডজনের উপর টেলিস্কোপ দিয়ে সুপারনোভা নিয়ে কাজ করছেন। ডাইচি এবং তার দল পৃথিবী থেকে ৩১ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সি NGC2146 তে অবস্থিত SN 2018zd সুপারনোভাকে পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, SN 2018zd সুপারনোভাটি আসলে…

  • অনেক সময় আমরা পেপার-পত্রিকায়  দেখি যে নাসার বিজ্ঞানীরা বা অমুক বিজ্ঞানীরা মহাকাশের তমুক জায়গায় প্রাণের অস্তিত্ব পেয়েছেন অথবা প্রাণের অস্তিত্ব আশা করছেন। আমরা কি ভেবে দেখেছি বিজ্ঞানী কিভাবে বলেন প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে। অনেকেই ভেবেছিলেন কিন্তু জানতে পারেন নি। এবার জেনে নিন কিভাবে প্রাণের অস্তিত্বের খোঁজ করা হয়।  কখনো কখনো আমরা সাধারণ মানুষেরা মনে করে থাকি, এমনও হতে পারে পৃথিবীর বাইরের প্রাণীরা অক্সিজেন গ্রহণ করে না, ওরা অন্য কোনো গ্যাস গ্রহণ করে হয়তো। বা এমন কি কোনো বাধ্য বাধকতা আছে যে পৃথিবীসহ বিশ্বের সকল প্রাণীর বাঁচতেবাচতে হলে অক্সিজেন গ্রহণ করতে হবে ? কিন্তু সত্যি কথা…

  • Taxis এবং Nomos শব্দদ্বয় থেকে উৎপত্তি লাভ করা Taxonomy শব্দটি দ্বারা আমরা বুঝি জীবের শ্রেণিবিন্যাস। উদ্ভিদ, প্রাণী কিংবা অন্য কোনো জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তাদের অনেককেই ট্যাক্সোনোমি বা শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক জ্ঞানকে সাথে নিয়ে চলতে হয়। দে ক্যান্ডল কর্তৃক ব্যবহৃত এই শব্দটির পরিধি ব্যাপক। তাই বিভিন্ন বিজ্ঞানী একে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে সংজ্ঞায়িত করেছেন। সিম্পসন এর মতে, জীবের শ্রেণিবিভাগের (Classification) এর ভিত্তি, উদ্দেশ্য, নিয়ম-কানুন ইত্যাদি বিষয়ের সমষ্টিগত রূপ বা আলোচনা হলো শ্রেণিবিন্যাস (Taxonomy)। তবে মায়ার আরো সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা প্রদান করেছিলেন। তিনি শ্রেণিবিভাগ বা Classification সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও আলোচনার ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক দিককে ‘শ্রেণিবিন্যাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।…