• যুগে যুগে মুনি-ঋষিরা স্বপ্নে নানান কল্যাণকর কিছুর খোঁজ পেতেন- এইরকম গল্প শৈশবে অনেকই শোনেছি। সেসব কতটা সত্যি তার বিচার বিশ্লেষণ করার কথা বলছি না। তবে কিছু নামকরা বিজ্ঞানীদের নামের সাথে কিন্তু এই কথাটি সত্যি সত্যি এঁটে গেছে। তাঁদেরই  মধ্যে একজন হচ্ছেন জার্মান রসায়নবিদ ফ্রেডরিখ অগাস্ট কেকুলে। এই বিজ্ঞানী বিখ্যাত হয়ে আছেন যে দুটি বড় আবিষ্কারের জন্যে তার সবকটিই নাকি তিনি স্বপ্নে কল্পনা করতে পেরেছিলেন। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাছে “বেনজিন” যৌগটি বেশ পরিচিত। জৈব রসায়ন এর ব্যাপারে ভালো দখল না অর্জন করতে পারলেও বেনজিন কে চেনে সবাই-ই। ষড়ভুজাকার এই জৈব যৌগটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়ও বটে। “বেনজিন” শব্দটি এসেছে…

  • আমাদের চারপাশের পরিবেশ আর রাসায়নিক উপাদান নিয়ে আমাদের কৌতুহল বহুকালের ৷ আমাদের পরিবেশ, গাছ, পাহাড় এগুলো কী দিয়ে তৈরি ? এই প্রশ্ন সবসময় ভাবিয়েছে দার্শনিকদের। চিন্তা করো আজ থেকে ৭০০০ বছর আগে যখন মানষ বৃষ্টি দেখত, তখন তারা কী ভাবত? তারা হয়তো ভাবত বৃষ্টি একটা অভিশাপ। যা সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। হয়তো ভাবত, বৃষ্টি একটা আশির্বাদ। এর কারণে গাছপালা বেড়ে ওঠে , আর তারা খাবার পায়। কিংবা এটাও ভাবত যে, আমরা যেখানে অবস্থান করছি , সেটা হলো দুই সমুদ্রের মাঝামাঝি কোনো অবস্থান। কারণ মাটি খুড়ঁলেই পানি পাওয়া যায়, আবার বৃষ্টি হলে আকাশ থেকে পানি পড়ে ৷…

  • মনোযোগ বলতে বোঝায়, মনকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে নিবিষ্ট করা। মনের সাথে সকল ইন্দ্রিয়ের যোগ ঘটিয়ে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করাই মনোযোগ শব্দকে বহন করে। এই সময় মন অন্যান্য সকল অপ্রয়োজনীয় বিষয়,অনুভূতি, চিন্তা-দুশ্চিন্তা,সংবেদনশীলতা  থেকে দূরে থাকে। একদম বলতে পারেন- আইসোলেটেড (isolated) অবস্থা আর কি। বাংলায় নির্বাসন বললেও বোধকরি ভুল হবে না। হা হা! আমাদের বেশিরভাগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার। এই দুই যন্ত্রের সুইচ অফ-অনের মাধ্যমে যেন অনেক কিছুই টিকটিক করে ঘুরছে। মোবাইল ফোনে ইন্সটল করা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এপস যেমনঃ- ফেসবুক,মেসেঞ্জার, হোয়াটসএপ, ইমো, ভাইভার, টেলিগ্রাম, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদিতে…

  • মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ অনুর্বর এবং শুষ্ক। গ্রহটির বরফক্যাপে  কিছু জল  জমাটবাঁধা রয়েছে। সেগুলি সম্ভবত গ্রহটির পৃষ্ঠের নীচে অবস্থিত। কিন্তু আপনি যদি মঙ্গলপৃষ্ঠভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে আপনি দেখতে পাবেন যে এর ভূপৃষ্ঠে তীর বা গিরিখাতের মতো গঠন আছে যা পূর্বের ব্যাপক বন্যার অবশিষ্ট প্রমাণ।  বিলিয়ন বিলিয়ন বছর আগে মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল ঘন ছিল বলে ধারণা করা হয়। বায়ুর তাপমাত্রা সামান্য উষ্ণ ছিল। মঙ্গল গ্রহে উপস্থিত ব-দ্বীপগুলি দেখতে পৃথিবীর নদীর ব-দ্বীপের মতো। কিছু কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে মহাসাগরগুলি গ্রহটিকে আংশিকভাবে আবৃত করে রাখতো ( মানচিত্র #1043 দেখুন)। অন্য বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহে প্রাপ্ত উল্কাপিণ্ডের যৌগিক গঠন দেখেছেন, যেখানে…

  • প্রায়শই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলে কিছুটা স্বস্তি মেলে। কিংবা প্রচণ্ড শব্দে কান চেপে ধরে রাখলে মনে হয় মাথাটা হালকা বোধ হয়। এই ধরনের মাথা ব্যথায় ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যা অগণিত।  চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সব লক্ষণকে মাইগ্রেইনের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  প্রথমত এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, মাইগ্রেইনের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে।  তাই  সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য প্যাটার্নগুলোর মধ্যে পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। সাধারণত দর্শনের সাথে সম্পর্কিত মাইগ্রেইন আলোকপাত করার পাশাপাশি আমরা ফোকাস করে থাকি। আমরা প্রচলিত মাইগ্রেনের প্রতিটি বিভাগ, সাধারণ লক্ষণ এবং সর্বোত্তম সম্ভাব্য চিকিৎসার অন্বেষণ করবো।  কারণ এবং…

  • শুরুর কথা বিজ্ঞানী টরিসেলি প্রচন্ড অসুস্থ। ঠিক মতো কথা বলতে পারেন না, খেতে পারেন না। যাকে বলে মুমূর্ষু অবস্থা।  টরিসেলি নিজের মনে বিড়বিড় করছেন- “প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না। কিন্তু পরীক্ষাটা আমি যতবার করেছি তত বারই শূন্যস্থান দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেন? তাহলে আমাদের ভাবনা কি ভুল! আমরা যেভাবে ভাবছি প্রকৃতি সেভাবে কাজ করছে না!” ডাক্তার তার বাঁচার আশা ছেড়ে দিলেন। কিন্তু অলৌকিকভাবে হলেও সত্যি, কিছুদিন পর টরিসেলি সুস্থ হয়ে উঠলেন। যেই পরীক্ষার ফলাফল দেখে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, সুস্থ হয়ে তিনি আবার সেই পরীক্ষা করলেন। কিন্তু ফলাফল ঐ একই। টরিসেলি বুঝতে পারলেন, তিনি কোনো বিপ্লবী নিয়ম…

  • অলসভাবে ইন্টারনেটে ঘুরাঘুরি করতে করতে পৃথিবীর হার্টবিটের খোঁজ পাই। অবাক হলেন? হুম, আমিও প্রথম দেখায় অবাক হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি যে এটা এমন একটা বিষয়, যেখানে পদার্থবিজ্ঞান আর জীববিজ্ঞান সহাবস্থান করছে। কিন্তু, বাংলায় এ ব্যাপারে তেমন কোনো কন্টেন্ট পেলাম না। তাই আমিই লিখতে বসে গেলাম। শুম্যান রেজোন্যান্স (Schumann Resonances বা SR) হলো পৃথিবীর আয়নোস্ফিয়ারে উৎপন্ন তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের এক সেট ফ্রিকোয়েন্সি। এই ফ্রিকোয়েন্সিগুলো 7.83 Hz থেকে শুরু হয়। একে পৃথিবীর “হার্টবিট” বলা হয়। এটি নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা করা হয়েছে, কারণ বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন যে এই বিশাল পৃথিবীর পাশাপাশি মানুষের উপরেও এর প্রভাব রয়েছে। কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস…

  • হ্যালো, সবার কী অবস্থা? আগের একটি ব্লগ পোস্টে আমি জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির ব্যাপারে একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন লিখেছিলাম। এরপর অনেকের অনুরোধে নমুনা প্রশ্ন নিয়েও কয়েকটি পর্বে বিশেষ আলোচনা করেছিলাম। সবার কাছ থেকে একদিকে যেমন পজিটিভ ফিডব্যাক পাচ্ছিলাম, তেমনি শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে একটা ছোট্ট আর্টিকেল লেখারও অনুরোধ পেয়েছিলাম। তো, আজকের সব আলোচনা হবে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতিপর্বের উপসংহারের আগের ব্যাপারগুলো নিয়ে। ঝালাই করো গাইডলাইনে আমি বারবার মৌলিক জীববিজ্ঞানের উপর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেছিলাম। যদি মৌলিক বিষয়গুলো (কোষের কার্যাবলি, জিন-অ্যালিল, অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য, সিমবায়োসিস ইত্যাদি) ঠিকঠাক মতো, বুঝে পড়া যায় তাহলে অর্ধেক কাজই শেষ হয়ে যায়। আর প্রস্তুতি পর্বের শেষ…

  • রিভিউটা এক শব্দে- ‘জোস’ লিখেই শেষ করে ফেলব বলে একটা ফাঁকিবাজি চিন্তা মাথায় এসেছিল। কারণ এক হচ্ছে রিভিউ লিখতে আমি পারি না, দুই অলসতা। কিন্তু পরে আবার ভাবলাম লেখকমশাই কষ্ট করে এত সুন্দর একটা বই লিখেছেন, এটুকু কষ্ট করাই যায়। বইটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হচ্ছে এর বিষয়- গল্প, গবেষণার গল্প। তো এটাতে চমকপ্রদতার কী হলো? সেটা হচ্ছে যে, এ পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়া গল্পের পরিমাণ অনেক বেশি, যে গল্পগুলো বলা বা শোনার মানুষ বা ব্যবস্থা বলতে গেলে নেই। ঠিকমতো খুঁজলে এ গল্পগুলো শোনার মানুষের বা বলার মানুষের অভাব হয়তো হবে না, কিন্তু কোনো এক কারণে ব্যাটে-বলে ঠিক…