• ১৯৯০ সালে হাবল মহাকাশ দূরবীন একটি ছবি ধারন করে,এবং এই ছবিটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশ করে।   ছবিতে দেখা যায় আয়োনিত হাইড্রোজেন, সাথে মহাজাগতিক ধুলার বিশাল তিনটি স্তম্ভ মহাকাশের বুকে পিলারের মত দাঁড়িয়ে আছে। এদেরকে বলে evaporating gaseous globules (EGGs).  সেই সাথে আরো দেখা যায় এই পিলারের অভ্যন্তরে নতুন নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে। এই পিলারের নাম দেয়া হয় “The Pillars of Creation” বা “সৃষ্টির স্তম্ভ”।  আসুন দেখা যাক বিস্ময়কর এই বস্তুটি কি?  এটি আসলে M-16 নামের একটি মুক্ত নক্ষত্রস্তবক (Open star cluster), কে ঘিরে থাকা বিশাল একটি নিহারীকা এর নাম ঈগল নিহারীকা।এর অন্য নাম গুলো হচ্ছে  স্টার কুইন, NGC-6611…

  • আচ্ছা, তোমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, “বলো তো, তুমি কবে মৃত্যুবরণ করবে?” – উত্তরে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো বলবে, “এটা আবার কি রকম বিচিত্র প্রশ্ন!” আবার, কেউ কেউ ধার্মিক হয়ে বলবে যে, “সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউই মৃত্যুর দিন বলতে পারেনা, এমনকি ধারণাও করতে পারে না”। কিন্তু, এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যার সম্পর্কে প্রচলিত আছে যে তিনি নিজের মৃত্যুর দিন ধারণা করেছিলেন, এমনকি তা কাকতালীয়ভাবে মিলেও গিয়েছিল। তোমরা হয়তো ভাবছো যে, তিনি হয়তো বা কোন মহান ঋষি অথবা জ্যোতিষী, কিন্তু তিনি আসলে কোনো ঋষি কিংবা জ্যোতিষী নন বরং একজন মস্ত বড় গণিতবিদ। শুধু গণিতবিদ বললেও ভুল…

  • প্রথমবারের মতো মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ শনাক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষণ চালানো ৮০% মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানীরা ক্ষুদ্র কণা খুঁজে পেয়েছেন। এরপর জানা যায় যে ঐ কণাগুলি শরীরের ভেতরে ভ্রমণ করতে এবং বিভিন্ন অঙ্গতে অবস্থান করতে পারে। স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব এখনও অজানা। কিন্তু গবেষকরা বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলি মানব কোষের ক্ষতি করে এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে ফেলা হয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া থেকে শুরু করে গভীরতম মহাসাগর পর্যন্ত  সমগ্র গ্রহকে দূষিত করছে। আর আমরা খাবার এবং পানির সাথে সাথে শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে সেই প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাগুলোকে নিজের দেহে…

  • যুগে যুগে মুনি-ঋষিরা স্বপ্নে নানান কল্যাণকর কিছুর খোঁজ পেতেন- এইরকম গল্প শৈশবে অনেকই শোনেছি। সেসব কতটা সত্যি তার বিচার বিশ্লেষণ করার কথা বলছি না। তবে কিছু নামকরা বিজ্ঞানীদের নামের সাথে কিন্তু এই কথাটি সত্যি সত্যি এঁটে গেছে। তাঁদেরই  মধ্যে একজন হচ্ছেন জার্মান রসায়নবিদ ফ্রেডরিখ অগাস্ট কেকুলে। এই বিজ্ঞানী বিখ্যাত হয়ে আছেন যে দুটি বড় আবিষ্কারের জন্যে তার সবকটিই নাকি তিনি স্বপ্নে কল্পনা করতে পেরেছিলেন। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাছে “বেনজিন” যৌগটি বেশ পরিচিত। জৈব রসায়ন এর ব্যাপারে ভালো দখল না অর্জন করতে পারলেও বেনজিন কে চেনে সবাই-ই। ষড়ভুজাকার এই জৈব যৌগটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়ও বটে। “বেনজিন” শব্দটি এসেছে…

  • আমাদের চারপাশের পরিবেশ আর রাসায়নিক উপাদান নিয়ে আমাদের কৌতুহল বহুকালের ৷ আমাদের পরিবেশ, গাছ, পাহাড় এগুলো কী দিয়ে তৈরি ? এই প্রশ্ন সবসময় ভাবিয়েছে দার্শনিকদের। চিন্তা করো আজ থেকে ৭০০০ বছর আগে যখন মানষ বৃষ্টি দেখত, তখন তারা কী ভাবত? তারা হয়তো ভাবত বৃষ্টি একটা অভিশাপ। যা সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। হয়তো ভাবত, বৃষ্টি একটা আশির্বাদ। এর কারণে গাছপালা বেড়ে ওঠে , আর তারা খাবার পায়। কিংবা এটাও ভাবত যে, আমরা যেখানে অবস্থান করছি , সেটা হলো দুই সমুদ্রের মাঝামাঝি কোনো অবস্থান। কারণ মাটি খুড়ঁলেই পানি পাওয়া যায়, আবার বৃষ্টি হলে আকাশ থেকে পানি পড়ে ৷…

  • মনোযোগ বলতে বোঝায়, মনকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে নিবিষ্ট করা। মনের সাথে সকল ইন্দ্রিয়ের যোগ ঘটিয়ে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করাই মনোযোগ শব্দকে বহন করে। এই সময় মন অন্যান্য সকল অপ্রয়োজনীয় বিষয়,অনুভূতি, চিন্তা-দুশ্চিন্তা,সংবেদনশীলতা  থেকে দূরে থাকে। একদম বলতে পারেন- আইসোলেটেড (isolated) অবস্থা আর কি। বাংলায় নির্বাসন বললেও বোধকরি ভুল হবে না। হা হা! আমাদের বেশিরভাগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার। এই দুই যন্ত্রের সুইচ অফ-অনের মাধ্যমে যেন অনেক কিছুই টিকটিক করে ঘুরছে। মোবাইল ফোনে ইন্সটল করা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এপস যেমনঃ- ফেসবুক,মেসেঞ্জার, হোয়াটসএপ, ইমো, ভাইভার, টেলিগ্রাম, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদিতে…

  • মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ অনুর্বর এবং শুষ্ক। গ্রহটির বরফক্যাপে  কিছু জল  জমাটবাঁধা রয়েছে। সেগুলি সম্ভবত গ্রহটির পৃষ্ঠের নীচে অবস্থিত। কিন্তু আপনি যদি মঙ্গলপৃষ্ঠভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে আপনি দেখতে পাবেন যে এর ভূপৃষ্ঠে তীর বা গিরিখাতের মতো গঠন আছে যা পূর্বের ব্যাপক বন্যার অবশিষ্ট প্রমাণ।  বিলিয়ন বিলিয়ন বছর আগে মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল ঘন ছিল বলে ধারণা করা হয়। বায়ুর তাপমাত্রা সামান্য উষ্ণ ছিল। মঙ্গল গ্রহে উপস্থিত ব-দ্বীপগুলি দেখতে পৃথিবীর নদীর ব-দ্বীপের মতো। কিছু কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে মহাসাগরগুলি গ্রহটিকে আংশিকভাবে আবৃত করে রাখতো ( মানচিত্র #1043 দেখুন)। অন্য বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহে প্রাপ্ত উল্কাপিণ্ডের যৌগিক গঠন দেখেছেন, যেখানে…

  • প্রায়শই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলে কিছুটা স্বস্তি মেলে। কিংবা প্রচণ্ড শব্দে কান চেপে ধরে রাখলে মনে হয় মাথাটা হালকা বোধ হয়। এই ধরনের মাথা ব্যথায় ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যা অগণিত।  চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সব লক্ষণকে মাইগ্রেইনের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  প্রথমত এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, মাইগ্রেইনের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে।  তাই  সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য প্যাটার্নগুলোর মধ্যে পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। সাধারণত দর্শনের সাথে সম্পর্কিত মাইগ্রেইন আলোকপাত করার পাশাপাশি আমরা ফোকাস করে থাকি। আমরা প্রচলিত মাইগ্রেনের প্রতিটি বিভাগ, সাধারণ লক্ষণ এবং সর্বোত্তম সম্ভাব্য চিকিৎসার অন্বেষণ করবো।  কারণ এবং…

  • শুরুর কথা বিজ্ঞানী টরিসেলি প্রচন্ড অসুস্থ। ঠিক মতো কথা বলতে পারেন না, খেতে পারেন না। যাকে বলে মুমূর্ষু অবস্থা।  টরিসেলি নিজের মনে বিড়বিড় করছেন- “প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না। কিন্তু পরীক্ষাটা আমি যতবার করেছি তত বারই শূন্যস্থান দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেন? তাহলে আমাদের ভাবনা কি ভুল! আমরা যেভাবে ভাবছি প্রকৃতি সেভাবে কাজ করছে না!” ডাক্তার তার বাঁচার আশা ছেড়ে দিলেন। কিন্তু অলৌকিকভাবে হলেও সত্যি, কিছুদিন পর টরিসেলি সুস্থ হয়ে উঠলেন। যেই পরীক্ষার ফলাফল দেখে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, সুস্থ হয়ে তিনি আবার সেই পরীক্ষা করলেন। কিন্তু ফলাফল ঐ একই। টরিসেলি বুঝতে পারলেন, তিনি কোনো বিপ্লবী নিয়ম…